Headlines
Loading...
স্বপ্নাদেশ থেকে শুরু হয়েছিলো নায়ক বাড়ির জগদ্ধাত্রী পূজা, অগ্নি সংযোগ ছাড়ায় জ্বলতে থাকে হোম কুন্ডলী

স্বপ্নাদেশ থেকে শুরু হয়েছিলো নায়ক বাড়ির জগদ্ধাত্রী পূজা, অগ্নি সংযোগ ছাড়ায় জ্বলতে থাকে হোম কুন্ডলী

 

মনোজিত গোস্বামী, কাঁকসা : দশভুজা রূপী দূর্গা নয় চতুর্ভুজা রূপী জগদ্ধাত্রী রূপে পূজা কর স্বপ্নাদেশে মাতৃ আদেশ পেয়ে আনুমানিক ৬৭ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছে নায়ক বাড়ির দেবী জগদ্ধাত্রী।১৯৫৬ সালে দামোদর নদীর লাগোয়া গোলসী ১ নং ব্লকের চাঁকতেতুল গ্রামের বাসিন্দা স্বর্গীয় বিশ্বনাথ নায়ক শুরু করেন এই পূজা।

আনুমানিক ৫০০ বছর আগে পূর্ণচন্দ্র নায়ক চাঁকতেতুল গ্রামে নায়ক বাড়িতে দশভুজা রূপী দুর্গা পূজা শুরু করেন।ধারাবাহিক ভাবে বছরের পর বছর ধরে দশভুজার পূজা পাঠ করা হতো।পারিবারিক সূত্রে জানা যায় অষ্টমীর দিন বলির সময় কিছু বিঘ্ন ঘটার ফলে প্রতিমা পরে যায় এবং ঘট ভেঙে যায়।তখন সেই সময় বর্তমান নায়ক বাড়ির পূর্বপুরুষেরা প্রতিমার পাটাতন সহ ঘট গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার দূরে দামোদর নদীতে বিসর্জন দিয়ে দেয়।সেই থেকে এই থান টি দেবী দুর্গার থান হিসাবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তা এই অঞ্চলে জগদ্ধাত্রী মন্দির হিসাবে পরিচিত বলে জানান নায়ক বাড়ির উত্তরাধিকারী বিনয় নায়ক। 

তিনি জানান বংশের ধারা অনুযায়ী পিতৃ দেব স্বর্গীয় বিশ্বনাথ নায়ক প্রথম জীবন থেকেই আধ্যাতিক লাইনে ছিলেন এবং খুব ধার্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি ছিলেন।ছোট থেকে তিনি বাঁকুড়া জেলার পলাশ ডাঙায় স্কুলে থেকে তিনি পড়াশুনা করেছেন এবং খুব কষ্ট করেই তিনি বড় হয়েছিলেন।সংসার থাকলেও সংসারের প্রতি মন  কখনও ছিলো না তাঁর।


তিনি ছিলেন একজন মাতৃ সাধক।এলাকায় তিনি মাতৃ সাধক হিসাবে পরিচিত লাভ করেন।একদিন তিনি সাধনার সময় মাতৃত্ব অমৃত পান করেন এবং মায়ের স্বপ্নাদেশ পান যে আমাকে দশভুজা রূপী দূর্গা নয় চতুর্ভুজা রূপী জগদ্ধাত্রী রূপে পূজা কর এই থানে।সেই থেকে মায়ের আদেশ অনুসারে ধারাবাহিক ভাবে হয়ে আসছে পূজা।


বর্তমানে উত্তরাধিকার অনুসারে বিনয় নায়ক আনুমানিক১৯৮৩ সাল থেকে প্রায় ৩৯ বছর ধরে এই পূজা পাঠ করে আসছেন চিরচারিত প্রথা মেনেই।তিনি বলেন সূর্য কে ধরে প্রাত্কালীন, মধ্যকালীন ও সাহান্ন কালীন এই তিন কালীন পূজা করা হয়, সারাদিন ধরেই চলে পূজাপাঠ, হোমযজ্ঞ।অগ্নি সংযোগ ছাড়ায় জ্বলতে থাকে হোম কুন্ডলী তা দেখতে ভিড় জমায় বহু ভক্ত।শুধু এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও বহু দূরদূরান্ত থেকে আসে ভক্তরা পূজার সময় পূজা দেখতে।বলির সময় চালকুমড়ো,কলা, শশা, ও আখ বলি দেওয়া হয়।


মায়ের ভোগে থাকে সুজি, ছানা, লুচি, মিষ্টি, ফল, খিচুরি ও বিভিন্ন তরিতরকারি।দুই দিন ধরে চলে নরনারায়ন সেবা।পানাগড়ের বাসিন্দা বাবু নাগ জানান তিনিও একজন মায়ের ভক্ত,মায়ের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা আছে বলেই প্রতি বছর পুজোর সময় মায়ের থানে  আসেন বলে জানান তিনি।সারাবছর ধরে মন্দিরে চলে নিত্য সেবা, তাই বছরে প্রায় দিনই ভক্তদের ভিড় দেখতে পাওয়া যায় এই মন্দিরে।