ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে ‘সোশ্যাল হারমনি’র বার্তা দিতে রানিগঞ্জে ম্যারাথন দৌড়
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান : বিশিষ্ট ব্যক্তিরা-সহ অসংখ্য মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের হাতে রয়েছে পতাকা। এই ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়েই রানিগঞ্জে আয়োজিত হল ম্যারাথন দৌড়। সামাজিক সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের দৃঢ় বার্তা নিয়ে ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার এক বর্ণাঢ্য ম্যারাথন রেস অনুষ্ঠিত হয়। সিয়াড়শোল বাবুপাড়া ফিরে দেখা প্রতীতি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি-র উদ্যোগে আয়োজিত এই ম্যারাথনে বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল নজর কাড়ার মতো।
প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথনের সূচনা হয় রানিগঞ্জের শিশুবাগান মোড় থেকে। এরপর এন.এস.বি. রোড, সিয়াড়শোল রোড, ইতওয়ারি মোড়, পি.এন. মালিয়া রোড চলে এই দৌড় প্রতিযোগিতা। এরপর শিশুবাগান ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়। গোটা রুট জুড়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও উৎসুক স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় উপচে পড়েছিল।
তবে শুধু দর্শক হয়েই তারা থাকেননি, এর পাশাপাশি করতালি ও উৎসাহব্যঞ্জক স্লোগানে তাঁরা দৌড়বিদদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। গোটা রুটজুড়ে পুলিশ মোতায়েন থাকায় অনুষ্ঠানটি সূষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
উদ্যোক্তাদের তরফে জানা গিয়েছে, এই দিনের এই ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ৪৮৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছোট শিশু থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী এমনকী, প্রবীণ নাগরিকরাও ছিলেন। যা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তা বলার অপেক্ষা থাকে না।
এই বিষয়ে সংস্থার সদস্যরা জানান, এটি সিয়াড়শোল বাবুপাড়া ফিরে দেখা প্রতীতি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি উদ্যোগে আয়োজিত ম্যারাথনের তৃতীয় বর্ষ। প্রতি বছরই এই ম্যারাথনকে কেন্দ্র করে থাকে একটি বিশেষ সামাজিক থিম।
এবছরের থিম ছিল “সোশ্যাল হারমনি”, যার মূল উদ্দেশ্য সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ ও ঐক্যবোধকে আরও মজবুত করা। এবছরের ম্যারাথনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কেনিয়া থেকে আসা চারজন দৌড়বিদের অংশগ্রহণ। তাঁদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাত্রা পায়।
এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পুরনিগমের এমএমআইসি দিব্যেন্দু ভগত, সমাজকর্মী ও সংস্থার সদস্যরা, এবং পুলিশ প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলেই ভুয়সী প্রশংসা করেন এই আয়োজনের।
এক কথায়, রানিগঞ্জে আয়োজিত এই ম্যারাথন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতাই নয়, বরং ‘সোশ্যাল হারমনি’র এক অভিনব বার্তাবাহী অনুষ্ঠান হয়েছিল তা এক প্রকার স্পষ্ট।



