Headlines
Loading...
সকলের মনস্কামনা পূর্ণ হয় জামুরিয়ার বাবা কালারায় ( ধর্মরাজ ) মন্দিরে

সকলের মনস্কামনা পূর্ণ হয় জামুরিয়ার বাবা কালারায় ( ধর্মরাজ ) মন্দিরে

 

ইনফর্ম দুর্গাপুর ডিজিটাল ডেস্ক : পশ্চিম বর্ধমানের আসনসোল মহকুমার অন্তর্গত জামুরিয়া থানার সত্তোড় গ্রামের বাবা কালারায় মন্দির সদাজাগ্রত । বাবা সকলের মনোকামানা পুর্ণ করেন এমনটাই কথিত আছে । ৫০০ বৎসরের অধিক প্রাচীন এই মন্দির একাধিক অলৌকীক ঘটনায় জড়িত। দেবতেতুল বৃক্ষের বয়স ৫০০ বৎসরের অধিক কতো কেউ আজ পর্যন্ত বলতে পারেনি। 



বাবা কালারায় মন্দির সত্তোড় পশ্চিমঙ্গের পশ্চিম বর্ধমানের অন্তর্গত জামুরিয়া থানার সত্তোড় গ্রামের বাবা কালারায় (ধৰ্মরাজ) সদা জাগ্রত একটি মন্দির । বাবার আবির্ভাব আনুমানিক প্রায় ৭৮০ বৎসর আগে । মন্দিরের সংলগ্ন রয়েছে একটি পুকুর যার নাম বর্তমানে কালারায় পুকুর । সেই পুকুরে বাবা কালারায় এক কুমারী মেয়েকে ডুবিয়ে দেয় যার নাম ছিল উষা । তিন দিন পরে কুমারী উষার মাথায় উঠে আস । সেই রাত্রে চ্যাটার্জী পরিবারের এক সদস্য (মহা সাধক শ্রী শ্রী কুলদা প্রসাদ ব্রম্ভচরী) কে স্বপ্ন দিয়ে বলেন , বাবা কালারায় ভোর বেলায় উঠবেন। 




সমস্ত রকম ব্যবস্থা করতে বলে, ঢাক , ধুনো, কীর্তন,নীয়ে বাবার নাম ডাকার পরে পুকুর থেকে উঠে আসেন বাবা কালারায় , তেতুলদেব বৃক্ষের নীচে স্থাপন হন। এবং কুমারী উষার দেহত্যাগ করেন । 





সেই এক রাতেই মাটির মন্দির নির্মাণ হয় এবং চ্যাটার্জী পরিবার বাবার স্বপ্নানত্বরে সেবাইতের ভার গ্রহন করেন । নিত্য পুজো পাঠ হয় । আজও সেই চিরাচরিত বিধি, বিধান, নিয়ম মেনে নিত্য পুজো পাঠ হয় । বাবার কালারায়ের আদেশে অমাবস্যায় সাত পুরের স্বশ্বানের মাটি এনে বেদী নির্মাণ ও পীঠ নির্মাণ করা হয় । এখানে ছাগ বলিদান বাবা কালারায় পুজোর গুরুত্বপুননো অঙ্গ ।




পরবর্তীতে সেবাইতগণ মাটির মন্দির ভেঙ্গে পাথরের মন্দিরের জীর্ণ উদ্ধার করেন বাংলা - ১৩৯৫ সাল । পরবর্তীতে মন্দিরের জীর্ণ উদ্ধার করা হয় ইং-২০১৭ সালে । সত্তোড় কালারায় মন্দিরের সংলগ্ন যে দেব বৃক্ষ তেঁতুল আছে । এই বৃক্ষ সাধারণ বৃক্ষের মতো নয় তাই এই বৃক্ষকে দেব বৃক্ষ বলা হয় । এই দেব বৃক্ষের বয়স কত হলো আজ পর্যন্ত জানা যায়নি আনুমানিক প্রায় ১০০০ (হাজার বৎসরের বেশি ) তাঁর কারণ ১৩ পুরুষ বলতে পারেনি । সত্তোড় কালারায় মন্দিরের পুজোর বার্তা বহন করে নিয়ে আসে দেব তেঁতুল বৃক্ষের নবীন কিশলয় । বাবা কালারায়ের পুজোর আগে সেটি বৈশাখী বা জ্যৈষ্ঠ মাসে হোকনা কেন যেনো তেনো পোকারানো বাবার মাহিত্য অদূর অতীত কাল থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত এখনো সমান ভাবে বিরাজ করছে ।



 সত্তোড় কালারায় মন্দিরে যে দেব তেঁতুল বৃক্ষের পাশে যে বাবার ঘোড়া কুড় বা পুষ্প ক্ষেত্র আছে যেখানে বাবার পুজোর ফুল বা বাসী পুজোর সামগ্রী যেখানে ফেলাহয় সেটার মাহিত্য অনেক আছে । এখানে নব মুন্ডি আসন আছে ২ টি মায়ের পঞ্চমুন্ডি এর পাশে যেখানে তাল বৃক্ষে গাঁ বেয়ে ওঠা বটবৃক্ষ এর নিচে বড়ো একটা ৩ হাত লম্বা পাথর ২ হাত চওড়া একটা বড়ো পাথররের নিচে নবমুন্ডি স্থাপন করা আছে । মা রাজরাজেস্বরী পীঠ মাটি ভেদকরে উঠতে থাকে মায়ের বড়ো, বড়ো শিলা পিন্ড চারচূড়ামণি শক্তি পিন্ড । পরবর্তীতে মহা সাধক মহাপুরুষ শ্রী শ্রী কুলদা প্রসাদ ব্রহ্মচারী নবমুন্ডি ও পঞ্চ মুন্ডি আসন প্রতিষ্ঠিত করেন এবং সিদ্ধলাভ করেন । পরে অনেক বীর সাধনায় (শ্বশান,চিতা,শব সাধনায়) সিদ্ধি লাভ করেন এবং মহাসাধক মহাপুরুষ শ্রী শ্রী কুলদা প্রসাদ ব্রহ্মচারী জগতের কল্যানে উদ্দেশ্য মানব কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন ।



 বাবা কালারায় মন্দিরের গর্ভ গৃহে অন্যান দেব ও দেবী হলেন প্রথমে, বাবা কালারায় , মা রাজরাজেস্বরী (ভীমা ভৈরবী) শক্তিপীঠ, চারচূড়ামণি শক্তি পিন্ড, রুরু ভৈরব পিন্ড , বটুক ভৈরব পিন্ড , মা মঙ্গলচন্ডীকা, মা মনসা, মা শীতলা, মা ঈশ্বরী দূর্গা, মা ষষ্ঠী, বাবা বানেশ্বর বাবা কালারায় মন্দিরের গর্ভ গৃহে । এই বাবা কালারায় মন্দিরের বারেন্দার পূর্ব দিক বরাবর ঈশান কোনে বাবা শ্রী শ্রী অনাদিলিঙ্গ পাতাল ফোঁড় স্বয়ম্ভু শম্ভু বিরাজ করছেন । বাবা কালারায় মন্দিরের ৩৬৫ দিন পুজোপাঠ, ঝাঁট পাঠ গাজন, গজনের সমস্ত আচার অনুষ্ঠান সহ সারা বৎসর সব অনুষ্ঠান সেবাইতদের ( চ্যাটার্জী পরিবারের )রক্ষনা বেক্ষণ তত্ত্ববোধানে সারা বৎসর পালিত হয় ।



 মা বামা কালী মন্দির, মা দক্ষিনা কালী মন্দির, হরির মন্দির, লক্ষী মন্দির, শ্রী বজরংবলী মন্দির, এই সব মন্দির গুলির ৩৬৫ দিন পুজোপাঠ সেবাইতদের ( চ্যাটার্জী পরিবারের ) তত্ত্ববোধানে সারাবৎসর । বাবা কালারায়ের বাৎসরিক পুজো এবং চড়ক, মেলা প্রতি বৎসর বুদ্ধ পূর্ণিমার পতিপদ তিথিতে বাবার বাৎসরিক গাজন উৎসব ধুম ধাম করে পালন করা হয় । আসে পাশের গ্রামেরও পুজো গাজন উৎসব এই বাবা কালারায় গাজন । পার্সবর্ত্তী গ্রামসকলের এই একটাই গাজন উৎসবে সকলের আনন্দে সমারোহে পালন করে ।


 হবিষের দিন বারের আগের দিন থেকে সকলে বাবা কালারায়ের ভক্তা কমান,এই এলাকার সকল গ্রামের মানুষ আসেন । সেই দিন আসে, সারাদিন উপোস করে বাবার ভক্তাগণ পাশের গ্রামে বাবা বানেশ্বর গ্রামে গ্রামে প্রদক্ষিণ করেন । দুপুরে পুকুরে গিয়ে পুজোপাঠ হয়  পুকুর থেকে এসে বাবার মন্দিরে পুজো হয়ে সকল ভক্তা প্রসাদ ও বাবার স্নেনান জল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে হবিসান্ন গ্রহণ করেন । সন্ধ্যায় বাবা কালারায়ের থানে এসে পুজোর অনুষ্ঠান ভক্তা প্রণাম ও বাবার ১০৮ নাম ডাকা হয় । বাবা কালারায়ের বারের দিনে সারাদিন উপোস করে বাবার ভক্তাগণ পাশের গ্রামে বাবা বানেশ্বর গ্রামে গ্রামে প্রদক্ষিণ করেন । দুপুরে পুকুরে গিয়ে পুজোপাঠ হয় । পুকুর থেকে এসে বাবার মন্দিরে পুজো হয়ে বাবার রাজভোগ দেওয়ার হয় ।




তারপরে শিবদলো হয় বাবার ভক্তাগণ পা গুলি উপরে দড়ির সঙ্গে বেঁধে মাথা নিচে করে দলে দলে হাতে ফুল, বিল্লপত্র, জল বাবাকে অঞ্জলি দেওয়ার পরে । তারপর সকল ভক্তা বাবার স্নেনান জল ও বাবার প্রসাদ দেওয়া হয় বাবার ভক্তাদের ফলার(ভিজা বুট, শসা নানা রকম ফল দিয়ে,সব রকম মৃষ্টি দেওয়া হয়) । বাবার ভক্তাদের সেবার পরে, সকল মানুষ জনকে বাবার প্রসাদ দেওয়া হয় । বাবার ভক্তা ও সাধারণ মানুষ সন্ধ্যায় বাবা কালারায়ের থানে এসে পুজোর অনুষ্ঠান হয় ঢাকা, ধুনো সহ কারে জাগল গ্রাম প্রদক্ষিণ করে বাবার মন্দিরে এসে ভক্তা প্রণাম ও বাবার ১০৮ নাম ডাকা হয় । তারপরের বাবা কালারায়ের দিন পুজো বাবা কালারায়ের পুজোর দিন বাবার ভক্তা ও গ্রাম বাসী, আশেপাশের গ্রাম বাসী উপোস করে থাকে দূর দুরন্ত ( বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, ঝাড়খন্ড, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান থেকে অনেক ভক্ত ও উপসী আসেন বাবা কালারায়ের কাছে মানত পূরণের জন্য । বিকেলে গ্রামের একপাশের নুতুন পুকুরে বাবা কালারায় ও চাঁদরায় স্নেনা যাত্রায় মন্দির থেকে বাহির হন ঢাকা, বাজনা, হরিনাম, ধুপ, ধুনো, চামর, ময়ুর পাখা দোলাতে চড়ে বাবা সেবাইত ও ভক্তাদের সঙ্গে পুকুরে বাবা কালারায় ও চাঁদরায়কে স্নেনা করানো হয়, সেই বাবার স্নেনা দেখার জন্য মানুষের ভিড় উপচে পড়ে কারণ এই সেই একটা দিন যে দিন বাবাকে দেখার সুযোগ থাকে, এই একটা দিনে বাবা কালারায় জগতের মঙ্গলেও সকলের মঙ্গলে মন্দির থেকে বাহিরে আসেন ।



 অনেক উপসী, ভক্তগণ বাবার স্নেনানের পরে ডন্ডি বা ডন্ডি দিয়ে থাকেন স্নেনার ঘাট থাকে বাবার মন্দির পর্যন্ত , বাবার স্নেনা জল নিয়ে থাকেন । বাবার বানেশ্বরের উপরে এক ভক্ত শুয়ে আসে তারওপরে সেবাইত চেপে আসে । বাবার স্নেনা জলের হাঁড়ি উল্টো করে নিয়ে আসে কিন্তু এক ফোটা জল পড়ে না এটা হলো বাবার কালারায়ের মাহিত্ব মধ্যে একটা । পুকুর থেকে বাবাকে স্নেনানের পরে গ্রাম পদক্ষিণ করা হয় এবং সেই সময় ভক্তদের পদ্ম ফুলে বাবা সুসজ্জিত,বাবা যখন গ্রমের ভক্তদের দরোজায়, দরোজায় ভগবান আসে তখন সেই ভক্ত ভগবানকে বরণ করে প্রদীপের আলোয়, সুবাশিত ধূপের গন্ধে, আম পল্লব, জল পূর্ণ ঘট, গলায় কাপড় দিয়ে বাবার কাছে প্রার্থনা করে পরিবারের সকলে ।



কাছারী এসে সগরবান, পা উপরে ঝুলিয়ে মাথায় নিচে আগুন জ্বালানো হয় বাবা অসীম কৃপা মাথা আগুনে পুড়েনা । তারপরে বাবা কালারায় মন্দিরে প্রবেশ করেন । পুজো হয় ফুল পড়ে । সন্ধ্যা থেকে সারা রাত্রি মানুষের ভিড় প্রায় হাজার ৫০ হাজারেরও বেশি সংখ্যা মানুষের ভিড় হয় ঘোড়া ও ১০৮ পদ্ম ফুল, পূজার দেওয়ার জন্য । মেলা হয় ৫ দিন ধরে রাত্রে পুজোর পরে আগুন খেলা, কাঁটা খেলা, বান ফোঁড়া পুজোর অনুষ্ঠান হয় । রাত্রে রামায়ণ গান তারপরে বাউল গান হয় ভোর পর্যন্ত । পুজোর পরে সবাই আলা, প্রদীপ সারা রাত জেলে জেগে থাকে, ঘি এর মারুলী দেয় । তারপরেরদিন চড়ক, পূর্ণ হোম ও ছাগ বলিদান এই দিন বিশেষ আকর্ষনে দূর দুরন্ত থেকে ছুটে আসে চড়ক দেখার জন্য ।




 এই দিন পুজো হয়ে সকালে হোম শুরু হয় । হোম শেষে ছাগ বলিদান হয় আর ২০০১ সালে ২৫০ টি ছাগ বলি দান হয় । তাঁরও আগে ৫৬৫ টি বলিদান হতো । বর্তমানে ও ১০০ এর কাছাকাছি বলি দান হয় । এখানে বলিদান সম্পূর্ণ বাবার আদেশে হয় সেই রীতি বর্তমান । এক দিকে বলিদান আর অন্যদিকে চড়ক হয় । কাঠের বড়ো গাছের গুঁড়ি চড়ক বর্তমানে সিমেন্টের তৈরী বড়ো ২৮ ফুট লম্বা । ১২ হাত লম্বা কাঠের দুই প্রান্তে দড়ি দিয়ে প্রথমে ভক্তাদের পরে ঢাকি দের গুরানো হয় । শেষে পূর্ণ হোম শেষে সকল ভক্তাদের উতুড়ি / পৈতা খোলা হয় । সেই রাত্রে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয় । তারপরে বাবার বিশ্রাম হয় সেই রাত্রে কোনো বাজনার শব্দ হবে না, মেলা হয় মানুষ জন থাকে সারারাত্রি পর্যন্ত । চড়কের পরের দিন ধুলাট ভক্তা সেবা ও নরনারায়ন সেবা সন্ধ্যায় ভক্তারা তেল ও হলুদ মেখে নুতুন পুকুরে স্নেনান করে সেবা ও নরনারায়ন সেবা হয় । বাবার কালারায় মন্দিরে রামায়ণ (লক্ষন ভোজন ) গান হয় । রাত্রে যাত্রা, গান, নাটক, নাচ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে ।  


আবার এক বৎসর পরে সকল এলাকাবাসী অপেক্ষায় থাকে বাবার দর্শন ও আশীর্বাদের জন্য । সকল মনোকামনা পূর্ণ হয় । বাবা কালারায়ের কৃপায় বন্ধ্যা নারীর পুত্র লাভ,স্বেতী রোগ ,চোখের রোগ, পদ্মকাঁটা, চামড়ার রোগ ভালো হয় । সদা জাগ্রত বাবা কালারায় সকলের মনোকামনা পূর্ণ করেন । সত্তোড় বাবা কালারায়ের পীঠ স্থানে মহান মহান মহাপুরুষগণের আগমন হয়েছে ওনারা হলেন ১) " রাম নারায়ণ রাম " বেদ বাণী প্রচার করেন " শ্রী শ্রী ঠাকুর বালক ব্রম্ভচরী মহারাজ "। ২)কাশীবিশ্বনাথ থেকে" শ্রী শ্রী দণ্ডী স্বামী" ৩ )শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওমকারনাথ ঠাকুরের নাতি "শ্রী শ্রী কিংকর জগন্নাথ " ও শ্রী শ্রী সীতারামদাসওমকারনাথ ঠাকুরের প্রধান শিষ্য" শ্রী শ্রী গোকুলানন্দ সাধু " অরো অন্যান্য প্রমুখ শিষ্যগন এখনে এসেছেন ৪) কাজী নজরুল ইসলাম ৫)শ্রী শ্রী জয়দেব ঠাকুর (চুরুলিয়ায়) ৬ )শ্রী শ্রী ব্রজধাম বৃন্দাবণধাম থেকে কোনো এক মহারাজ জী । ৭ )স্বামী হট্টযোগী জোটাধারী নাগা সাধু বাবা ৮)বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা থেকে এক যোগসিদ্ধি সাধু এসেছিলেন উনি ওই সর্বমঙ্গলা পীঠে অনেক বছর সাধনা করেছিলেন । ৯ )শ্রী শ্রী গোপাল বাবা । আরো অনেকে মহান মহান মহাপুরুষের আগমন হয়েছে সত্তোড় বাবা কলারায় মন্দিরে ।